তিন দিনের সরকারি সফরে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন জার্মানির ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার। মূলত বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করাই তার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ড. কফলারের এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। আলোচনাগুলো কেবল প্রথাগত সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিযোজন ক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। জার্মান সরকার প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে আগ্রহী।
সফরসূচি অনুযায়ী, ড. কফলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংলাপ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রামে জার্মানির অর্থায়নে পরিচালিত চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। তার এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে জার্মানির অটল প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠবে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা অবস্থানকালে তিনি জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত ‘জার্মান রিইউনিফিকেশন ডে’ উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। নব্বইয়ের দশকে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক পুন একত্রীকরণকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। এই উদযাপন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কয়েক দশকের স্নায়যুদ্ধকালীন বিভাজনের পর ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক ‘জার্মান রিইউনিফিকেশন ডে’কে স্মরণ করে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।