সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচি দীর্ঘ ৩৫ দিন পর খোলা হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী কঠোর নিরাপত্তায় ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এই টাকা গণনা করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

দানবাক্সে দেশি মুদ্রার পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাত হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩ দশমিক ৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল এবং ১০০ বাহরাইনি দিনার। এছাড়া ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, সাত ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত ও ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া পাওয়া গেছে। তালিকায় আরও রয়েছে ১০ হংকং ডলার, এক ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি। টাকার বাইরে দানবাক্সে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত চিঠিপত্রও পাওয়া গেছে। দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩ দশমিক ৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট। এ ছাড়া ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি পাওয়া গেছে।

মাজারের দানের মধ্যে নগদ টাকার পাশাপাশি প্রচুর গবাদিপশুও এসেছে। সাতটি গরুর মধ্যে চারটি লঙ্গরখানায় জবাই করা হয় এবং তিনটি খাদিমদের দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দান করা ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২১০টি লঙ্গরখানায় এবং ২৭টি শিন্নির কাজে জবাই করা হয়। বাকি ৪৮টি ছাগল খাদিমদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের ৩৫ শতাংশ অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে এবং ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাজার পরিচালনার জন্য ম্যানেজার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কম্পিউটার অপারেটর—এই তিনটি পদে নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও মাসখানেক সময় লাগতে পারে। নতুন জনবল নিয়োগের পর থেকে প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে আপাতত মাসে একবার এই গণনার কাজ চলবে।

দান হিসেবে পাওয়া টাকা আগের নিয়মে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। এই অর্থ থেকে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিলসহ আনসার সদস্যদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। টাকা বণ্টনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাজারের বিশাল পরিচালনা ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।