রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে ফখরুল আলম রতনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল, লুটপাট এবং সম্পদ দখলের হীন উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর নিজ বাড়ির সামনে রতনকে কুপিয়ে জখম করে হত্যার পর থেকে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। গত ১৯ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামের কুঠিরপাড় এলাকায় নিজ ঘরের সামনে ফখরুল আলম রতনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে কর্নেল বাতেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিবারকে জুলুম-নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার বানাচ্ছে।
তার দাবি, নিহত ফখরুল আলম রতন ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মানুষ এবং তার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
আত্মীয়তার সম্পর্কের পাশাপাশি রতন পীরগাছায় কর্নেল বাতেনের নিজস্ব মাদ্রাসায় অফিস সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যার ফলে তার চারিত্রিক দৃঢ়তা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
কর্নেল বাতেন জানান, হরিচরণ লস্কর গ্রামে গত দুই বছরে রতনের পরিবার ছাড়াও প্রায় ২০টি পরিবার বিভিন্নভাবে হয়রানি ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং এলাকা থেকে উচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতরা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের সমর্থন থাকা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু সেই অজুহাতে কাউকে প্রাণ দিতে হবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জোর দেন। এ কারণে কাউকে নির্যাতন বা হত্যা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। বিভিন্ন সময়ে এসব পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং কাউকে কাউকে এলাকায় বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক বিরোধের চেয়েও ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা এলাকাভিত্তিক কোন্দলের জের ধরে হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে অপরাধ যেই করুক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কারো অধিকার নেই। তিনি বলেন, যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তবে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ন্যস্ত করতে হবে। কোনো অপরাধীর দায়ভার তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বা তাদের ওপর হামলা করা অন্যায়। দল থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।’।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে কুর্শা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজনু মিয়ার নেতৃত্বে ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হায়দার আলী, লুৎফর, রিজু, রিপন, মতিয়ার, মেহের, বাটুল ও খলিলুরসহ বেশ কয়েকজন জড়িত। বর্তমানে খলিলুর পুলিশি হেফাজতে থাকলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
প্রধানমন্ত্রী এবং দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্নেল বাতেন বলেন, যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় অপরাধের রাজত্ব কায়েম করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থানীয়, উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানাব—অপরাধীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না।