বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সংস্থাটি শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাদের ফেসবুক পেজে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, লঘুচাপটি পরবর্তী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে এবং ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে লঘুচাপের কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠছে।
সিস্টেমটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার পর দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমমুখী হতে পারে। এটি পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সর্বোচ্চ শক্তি অর্জনের মাধ্যমে আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত বাংলাদেশের উপকূলের ওপর সরাসরি আঘাতের কোনো শঙ্কা দেখছে না বিডব্লিউওটি।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কসংকেত জারি করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সতর্কসংকেত ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির চূড়ান্ত গতিপথ এবং বাংলাদেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সরকারি আপডেটের দিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।