নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারানো ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর নয় বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া আক্তারের মরদেহ শেষ পর্যন্ত পটুয়াখালীর নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জের হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.) মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানা-সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের পারিবারিক আঙিনায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া আক্তারকে (৯) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়েছে। কেউ যাচ্ছিলেন ছুটিতে, কেউ ব্যবসার কাজে, ফেরা হলো না তাঁদের। পথে নাটোরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে সপরিবার রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। শহিদুল ইসলাম মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৪০) মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। গত সোমবার বিকেলে রুবিনা আক্তার ছেলে লাবিব (১১) ও মেয়ে তাছফিয়াকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে মাগুরায় স্বামীর কর্মস্থলে যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ও তাঁর মেয়ে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রুবিনা আক্তার ও ছেলে লাবিবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নাটোর ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, রুবিনা ও লাবিবের শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁদের এখন পর্যন্ত শহিদুল ও তাছফিয়ার মৃত্যুর সংবাদ জানানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মা ও ছেলের অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ৩২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।