মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী গোষ্ঠী এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশের ভেতর অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, কলকারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। যারা ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, তারাই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাই দেশবাসীকে এখন থেকেই অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। আপনারা দেখেছেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।’। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে?’।
দেশের চলমান উন্নয়নের গতিধারা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সচেতনতাই পারে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে টিকিট বিক্রির চেষ্টার মতো বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন।
রাজশাহীর উন্নয়নে নিজস্ব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, পানির সংকট দূর করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে দ্রুত ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার দাবি, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ অন্তত ১৪টি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনসভায় তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে কৃষক কার্ড প্রবর্তন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা, উপজেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং খাল খনন কর্মসূচি অন্যতম। জনসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা ও সমর্থনই সরকারের মূল শক্তি। জনকল্যাণমূলক এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সক্রিয় সমর্থন ও পাশে থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।