মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমেছিলেন টেম্বা বাভুমা। দলীয় পঞ্চাশ পূর্ণ হওয়ার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা চার উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ১১০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে দলটির দ্রুত অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ১৭৯ রানের অনবদ্য ইনিংসটি সাজাতে তিনি ৩৩৪টি বল মোকাবেলা করেন এবং নয় ঘণ্টারও বেশি সময় উইকেটে টিকে থাকেন। ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে দিনের চেয়ে ঘণ্টার হিসেবেই তার ইনিংসটির গভীরতা প্রকাশ পায় বেশি—৯ ঘণ্টারও বেশি সময় উইকেটে থিতু থেকে ৩৩৪ বলের মুখোমুখি হন তিনি। কথাগুলো কোনো বিস্ময় ছাড়াই বললেন বাভুমা। ব্যক্তিগত দিক থেকে তফাত এটাই যে, এবার বড় একটি ইনিংস খেলতে পেরেছি।’।
সেন্ট জর্জ’স পার্কে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই অবিস্মরণীয় ইনিংস নিয়ে কথা বলেন বাভুমা। তিনি জানান, দলের চরম কোণঠাসা পরিস্থিতিতেই তিনি নিজেকে নিংড়ে সেরাটা দেওয়ার তাড়না অনুভব করেন। বাভুমা বলেন, যখন তিনি উইকেটে আসেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি বোলারদের অনুকূলে ছিল। পিচ ও কন্ডিশন সবকিছুই ছিল কঠিন, বিশেষ করে শুরুতেই দ্রুত দুই উইকেট হারানোর চাপ ছিল প্রবল। এরপর লোয়ার অর্ডার নিয়ে অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের গল্প লিখলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। মাঠে তার বাস্তবতাও ছিল খানিকটা আলাদা।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তার ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে সহায়তা করে। মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন না এনে আগের মতোই মাটিতে কামড় দিয়ে পড়ে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। বাভুমার এই ১৮টি চার ও একটি ছক্কায় গড়া ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত ৪২৫ রানের বড় পুঁজি গড়ে ইনিংস ঘোষণা করতে সক্ষম হয়। এর জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪ ওভার ব্যাট করে ৩ রান তুলতেই আলো স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। টিভিতে আজকের খেলা (২১ অক্টোবর ২০২৬)। সবসময় যেভাবে খেলি, এবারও মাটিতে কামড় দিয়ে সেভাবেই পড়ে থেকেছি।’।
বাভুমার এই লড়াইয়ে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা। মার্কো ইয়ানসেনের সঙ্গে তিনি ১৩২ রানের এবং সাইমন হারমারকে নিয়ে ১৮৩ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন, যা টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার অষ্টম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। বাভুমা জানান, ইয়ানসেন দারুণভাবে পাল্টা আক্রমণ করে রান বের করেছিলেন এবং হারমারও ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। তাদের দুজনের অবদানের কারণেই দল লড়াই করার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার সংকটের কাণ্ডারি হিসেবে এমন বিষম পরিস্থিতিতে তাকে পড়তে হয়েছে বারবার, ‘আমি বেশ কয়েকবারই এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। বাভুমা আরও যোগ করেন, ‘দলেকে একটি লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যেতে পেরে ভালো লাগছে। ইয়ানসেন ও হারমারের অবদান নিয়ে অধিনায়কের মন্তব্য, ‘মার্কো বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল।
পিচের কন্ডিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাভুমা জানান, উইকেট খুব একটা সহজ হয়ে যায়নি। মাঝেমধ্যেই বল অপ্রত্যাশিতভাবে লাফিয়ে উঠছিল বা সুইং করছিল। তবে বল কিছুটা পুরনো হওয়ার পর পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তিনি কখনোই নিজেকে পুরোপুরি থিতু মনে করেননি, বরং পুরো সময় সোজাসুজি ব্যাটে সতর্ক থাকার পরিকল্পনা আঁকড়ে ছিলেন। গত রবিবার গার্ড নেওয়া বাভুমা আউট হয়েছেন মঙ্গলবারে।
ম্যাচের বাকি দুই দিন নিয়ে বাভুমার ভাবনা হলো, জয়ের জন্য তাদের ধৈর্য ধরে লম্বা সময় ফিল্ডিং করতে হবে। নতুন বলের ক্ষেত্রে পিচে এখনও বোলারদের জন্য সহায়তা রয়েছে, তাই সঠিক জায়গায় বল করতে পারলে যে কোনো ফলাফল আসা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ম্যাচের প্রথম দুই দিনে ১৩৭ ওভার নষ্ট হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে হেরে সিরিজ জয়ের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। সেই লড়াইয়ে অধিনায়ক বাভুমা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এক নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
এদিকে, খেলার জগতের অন্যান্য সংবাদের মধ্যে জানা গেছে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে গ্রিক ক্লাবকে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এছাড়া অপর এক ম্যাচে শেষের রোমাঞ্চে বার্সেলোনাকে হারিয়েছে পিএসজি। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৫৯ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে মিনহাসে জয় পেয়েছে এক দল।
জাতীয় পর্যায়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ২৮১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পকে ৬ লেন সড়কে রূপান্তর করার উদ্যোগ। পাশাপাশি, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে একটি গোপনীয় চিঠি নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলগুলো দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আছে।