শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দেশের সব ধর্মের মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়ার কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্র আমাদের সকলের। এখানে নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার এবং কর্তব্য সমান। নিরাপত্তার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি একে অপরের পাশে থাকা ও সহায়তা করাও নাগরিকদের দায়িত্ব। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে উন্নয়নের পথে কাজ করার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেন যে, এই দেশের পরিবর্তন ও উন্নয়ন সবার জীবনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের সময় কেউ কারো ধর্ম জানতে চায়নি। গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা বা ভোটাধিকারের আন্দোলনের সময়ও মানুষ একে অপরের ধর্মের পরিচয় না খুঁজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন ভালো থাকে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কোনো ধর্মের বিভেদ থাকে না, সবাই কেবল মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান- যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি। তখনও কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিষ্টান।

বিশেষভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আড়াই বছর আগের সেই উত্তাল দিনগুলোতে লাখ লাখ মানুষ যখন রাজপথে নেমেছিল, তখন কেউ কাউকে ধর্মের ভিত্তিতে প্রশ্ন করেনি। সম্প্রতি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নির্বিশেষে অনেকেই দেশের অধিকার আদায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় দেশে গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজার এই আয়োজনকে একটি আনন্দঘন মিলনমেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি পুনরায় সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমরা মানুষ, আর আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। আসুন, একে অপরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত দেশ গড়ি।