ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি পৃথক হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’রও বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে সৌদি আরবে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। পরপর রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে হুথি গোষ্ঠী।
ধারাবাহিক এই হামলার ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় সোমবার, যখন জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। এরপর মঙ্গলবার আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা নিহত এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন। বুধবার রিয়াদ বিমানবন্দরে পৃথক আরেকটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন। বৃহস্পতিবারের রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ অন্তত ৩ জন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারান। বুধবার (৭ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরেই পৃথক আরেকটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন বাসিন্দা আহত হন। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা নিহত হন এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।
পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় শনিবার, যখন রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হয়। এই আক্রমণে ২ জন বাংলাদেশীসহ মোট ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। সবশেষে রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ হামলা চালানো হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ হামলা চালানো হয়। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
হামলার তীব্রতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এসব আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরবে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার এক মওলানার মৃত্যুসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও গভীর নিন্দা জানিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও হামলা জোরদার করে হুথিরা।