যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া এবং জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ দুটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার এসব ঘটনা ঘটে।

পেনসিলভেনিয়ার ইরি শহরে ৪৫ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী একটি বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত গুলি চালান। এতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুসহ মোট আটজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে পরে ওই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। ইরি পুলিশের প্রধান রিক লোরা জানান, নিহতদের মধ্যে আটজন একই পরিবারের সদস্য এবং অন্যজন তাদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন। হামলাকারী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরও দুই নারীকে গুলি করেন, যারা সাহায্যের জন্য প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি।

অন্যদিকে, একই দিনে জর্জিয়ার ডগলাস শহরে আরেকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। শহরের একটি আবাসিক ভবনে গুলির শব্দ শুনে পুলিশ সেখানে গিয়ে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুঁজে পায়। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার হার উদ্বেগজনক। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪০০টিরও বেশি গোলাগুলির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও বন্দুক হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি বড় শহরে একই ধরনের হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও টরন্টোতে বন্দুক হামলায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ফিলিপাইনের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার ঘটনা এবং বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। একইভাবে, এক পরিবারের আটটি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনাগুলোও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯।