মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ এবং অহিংস সংগ্রামের পথিকৃৎ। তবে স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নতুন দিল্লির বিড়লা হাউসে প্রার্থনাসভায় নথুরাম গডসের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। ৩৮ বছর বয়সী গডসে ছিলেন হিন্দু মহাসভার সদস্য এবং তার অভিযোগ ছিল, গান্ধী মুসলমানদের পক্ষ নিয়ে হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আদালতের রায়ে ১৯৪৯ সালের নভেম্বরে গডসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। তবে তিনি যে সবার প্রিয় নন, তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয় ভারতের স্বাধীনতার পরের বছর; অর্থাৎ, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নতুন দিল্লির বিড়লা হাউসে আয়োজিত বহু ধর্মমতের এক প্রার্থনা সভায় মহাত্মা গান্ধিকে সামনে থেকে সরাসরি গুলি করেছিলেন মহারাষ্ট্রের অধিবাসী নথুরাম গডসে। এতে জানানো হয়, ৩৮ বছর বয়সী নথুরাম গডসে চরম ডানপন্থি দল ‘হিন্দু মহাসভা’র সদস্য ছিলেন। এমনকি, গান্ধি পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।
বিবিসির ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গডসে হিন্দু মহাসভায় যোগ দেওয়ার আগে আরএসএস-এর সদস্য ছিলেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৭২ সালে আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। আরএসএস ক্ষমতার আড়ালে থেকে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বর্তমান ভারতীয় রাজনীতিতে গান্ধী ও গডসের মতাদর্শের লড়াইকে অনেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন। দুনিয়াজুড়ে তার খ্যাতি ‘মহাত্মা’ হিসেবে। মহাত্মা গান্ধির নামের পাশে আরেকটি নাম উল্লেখ করা খুবই বিব্রতকর। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি বিবিসির এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘নথুরাম গডসে: মহাত্মা গান্ধির হত্যাকারীকে ঘিরে রহস্য’।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আরশোলারা
- আন্দোলন: স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সরব অবস্থান।
- নেতৃত্ব: অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আরশোলারা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি জানাচ্ছে।
- অভিযোগ: নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ও পক্ষপাতিত্বের দাবি।
- কৌশল: গান্ধীজির অহিংস আন্দোলন ও কৌশল অনুসরণ করে গণমানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান।
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ সাধারণ মানুষ ‘জ্ঞানেশ, ইট ইজ ডান ব্রো’ স্লোগান তুলে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা বিরোধীদের বিরুদ্ধে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলছেন।
প্রশাসনিক বিতর্ক ও অপারেশন গঙ্গাজল
- অপারেশন গঙ্গাজল: আশির দশকে বিহারে পুলিশের বিতর্কিত কার্যক্রম ও শাস্তিমূলক পদ্ধতি।
- বর্তমান প্রেক্ষাপট: দুর্নীতি ও অসদাচরণে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার নতুন আলোচনা।
- তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার ও বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিহারের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থার তুলনা।
- জনমত: পুলিশের কঠোর আচরণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিতর্ক থাকলেও স্থানীয়ভাবে এর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
সাংবাদিক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান সংকটকালে সংবিধান রক্ষা ও গান্ধীবাদী আদর্শ চর্চার মাধ্যমেই নতুন আন্দোলনের পথ তৈরি হচ্ছে। সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোতে বিরোধী দলগুলোর ক্ষোভ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আমজনতার মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ভারত এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষা প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।