ভারতে নিজের মালিকানাধীন স্টারলিংক সেবা চালু করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মাস্ক সরাসরি ইঙ্গিত দেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা ‘অলিগার্ক’ ইচ্ছাকৃতভাবে স্টারলিংকের যাত্রাকে আটকে রেখেছেন। তাঁর মতে, এর পেছনে রয়েছে ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার হীন প্রচেষ্টা। তবে কারা এই বাধার নেপথ্যে, তা সরাসরি উল্লেখ না করলেও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।

ভারতে ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করে মাস্ক বলেন, গত মে মাস পর্যন্ত দেশটির প্রায় ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রাম ফোর-জি নেটওয়ার্কের বাইরে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট সেবা মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। উল্লেখ্য, স্টারলিংক চার বছর ধরে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও গত বছরের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স হাতে পায়, কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের অভাবে এখনো সেবা শুরু করতে পারেনি। এটি স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।

ইলন মাস্কের এই অভিযোগের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, লাইসেন্স পাওয়া প্রতিটি অপারেটরকেই একই ধরনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে না। বরং স্টারলিংকসহ সব অপারেটরের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয় মাস্কের আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

উল্লেখ্য, ভারতে বর্তমানে স্টারলিংক ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জিএমপিসিএস সেবা দেওয়ার লাইসেন্স রয়েছে। এগুলো হলো ভরতি গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও-সমর্থিত জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এর মধ্যে রিলায়েন্স জিও প্রায় ১ হাজার ৬০০টি লো-আর্থ-অরবিট বা এলইও স্যাটেলাইটের নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা সরাসরি স্টারলিংকের প্রতিযোগিতায় নামবে। রিলায়েন্স জিওর মালিক ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই ২০টি গেটওয়ে সাইট তৈরি করেছে, যা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে স্থলভাগের সাথে যুক্ত করবে। ড্রেয়ারের দাবি, ভারতের নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পুরো কাঠামোর নকশা করা হয়েছে। গত মাসে ভারত সরকার স্যাটেলাইট স্পেকট্রামের মূল্যকাঠামো অনুমোদন করেছে, যেখানে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় কম মূল্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিষয়টি। এসব স্থাপনায় শত শত অ্যান্টেনাও বসানো হয়েছে। এতে নির্ধারিত গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম চার্জ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে ঠিক যে সময়ে মাস্ক ভারতে এমন অভিযোগ তুললেন, সেদিনই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্টারলিংক-চালিত স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। বাংলালিংকের সহায়তায় এই সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম এই প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল।