চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে কার্যকর শাসনের আওতায় আনা এবং সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করতে সরকার একগুচ্ছ সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জঙ্গল সলিমপুর বিষয়ক আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভূমি প্রশাসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথাযথ পুনর্বাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক উপস্থিতির মাধ্যমে এলাকাটির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করা।
উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কাঠামো
- ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে বর্তমানে এলাকায় যে সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ চলছে, সরকার তার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
- সরকার সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে জঙ্গল সলিমপুরে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বর্তমানে এর জন্য উপযুক্ত জমি খোঁজার কাজ চলমান রয়েছে।
- চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এই এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে কারাগার নির্মাণের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
- এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য আলাদা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজার সরকারি খাস জমি ও পাহাড়ী এলাকাকে সুশাসনের আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার। বিভিন্ন সময়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বসবাস শুরু করা স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি এলাকায় বর্তমানে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপত্তা বেষ্টিত জনপদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জঙ্গল সলিমপুরের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।