পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত হলেই কেবল বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে ১০টি বিমান সংগ্রহের চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের অনুকূল নয় এমন কোনো চুক্তিতে সরকার স্বাক্ষর করে না।
জাতীয় স্বার্থ ও এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই চুক্তিতে সই করেছে মূলত বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো রাষ্ট্রদূত বা বন্ধুপ্রতিম দেশকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশ কোনো চুক্তি করে না। দেশের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে করা একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে এয়ারবাস বা অন্য যেকোনো সহযোগীর সাথে অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনিভাবে যথাযথ ও ত্রুটিমুক্ত বিবেচিত হলে সরকার যেকোনো চুক্তি সই করতে সবসময় প্রস্তুত থাকে।
চুক্তির বিবরণ ও লক্ষ্য
এই ক্রয় চুক্তির আওতায় দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ সুপরিসর বিমান এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও স্বল্পপরিসরের বিমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এসব বিমান যুক্ত হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহর আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি কৌশলের একটি অংশ। জ্বালানি-সাশ্রয়ী এসব বিমান সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব
আলোচনার সফল সমাপ্তির জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এয়ারবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজে বিনিয়োগ করার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বমঞ্চে আমাদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই চুক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় অংশীদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর ও দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। উন্নয়নের প্রতিটি ধাপেই এই অংশীদাররা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ তার প্রয়োজন ও স্বার্থ অনুযায়ীই বাণিজ্য পরিচালনা করে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিমান কেনার সিদ্ধান্তও সরকার জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনা করেই নিয়েছে।’।
অনুষ্ঠানের উপস্থিতি
- চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাসের পক্ষে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার স্বাক্ষর করেন।
- রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সদিচ্ছা উভয়পক্ষের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে। তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দুই পক্ষের মাঝে আরও অনেক ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।