ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণী ও সম্ভাব্য অর্থের উৎসের তথ্য জমা না দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী দাখিল, সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে করণীয় বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে ইসি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে দাখিল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনি ব্যয়ের সম্ভাব্য অর্থের উৎসের বিবরণী (ফরম-২০) এবং সম্পদ, দায়-দেনা ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব (ফরম-২১) জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে আগেও নির্দেশনা দেওয়া হলেও পুনরায় প্রার্থীদের সচেতন করতে বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন (ফরম-২২) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনি এজেন্ট থাকলে তার হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় ফরম সংযুক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে এসব কাগজপত্রের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিজয়ী, পরাজিত এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরাও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে ব্যয় না হলেও ‘শূন্য ব্যয়’ উল্লেখ করে নির্ধারিত ফরমে হিসাব জমা দিতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্নে প্রতিদিনের খরচের বিবরণ, বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, ব্যক্তিগত ব্যয়, অপরিশোধিত দাবি এবং কোন উৎস থেকে কত টাকা পাওয়া হয়েছে,এসব তথ্য প্রমাণসহ উল্লেখ করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ব্যয়ের উৎসের বাইরে অন্য উৎস থেকে অর্থ ব্যয় করা, ব্যয়ের সীমা অতিক্রম, নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়ানো কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে তা দুর্নীতিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচনি ব্যয় সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়াই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 





















