Hi

০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিরলেন ১৭৩ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৭৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরে বুরাক এয়ারলাইন্সের ইউজেড ২২২ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর দালালচক্রের প্রতারণার পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরা মুহূর্তে বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন এই ১৭৩ বাংলাদেশি। দেশে ফেরানোদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে তারা প্রথমে শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সাগরপথে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও নানা সময়ে দালালচক্র তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকে বন্দি জীবন, নির্যাতন ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছিল তাদের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে আইওএম পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে পৌঁছানো ১৭৩ নাগরিককে বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “লিবিয়া থেকে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। আইওএমের সহযোগিতা থাকায় এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।”

বিমানবন্দরে ফিরে আসা কয়েকজন জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগেই তারা দালালদের ফাঁদে পড়ে শারীরিক ও মানসিক নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একজন ফেরতপ্রাপ্ত বলেন, “ইউরোপে যাওয়ার আশা নিয়ে লিবিয়ায় যাই। পরে দালালরা আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়। অনেক কষ্ট করে বেঁচে ফিরলাম, এখন শুধু পরিবারকে দেখে শান্তি লাগছে।”

ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার লিবিয়ার অন্যতম কঠোর পরিবেশের আটককেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসী মানব পাচারকারী চক্রের দালালি, সংঘাতের ঝুঁকি ও অনিরাপদ পথচলার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকেন। বাংলাদেশিরাও সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথের অংশ হয়েছিলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিষয়ে আইওএম স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ধাপ পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

ফিরলেন ১৭৩ বাংলাদেশি

আপডেট : ০২:২৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৭৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরে বুরাক এয়ারলাইন্সের ইউজেড ২২২ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর দালালচক্রের প্রতারণার পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরা মুহূর্তে বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন এই ১৭৩ বাংলাদেশি। দেশে ফেরানোদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে তারা প্রথমে শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সাগরপথে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও নানা সময়ে দালালচক্র তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকে বন্দি জীবন, নির্যাতন ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছিল তাদের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে আইওএম পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে পৌঁছানো ১৭৩ নাগরিককে বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “লিবিয়া থেকে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। আইওএমের সহযোগিতা থাকায় এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।”

বিমানবন্দরে ফিরে আসা কয়েকজন জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগেই তারা দালালদের ফাঁদে পড়ে শারীরিক ও মানসিক নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একজন ফেরতপ্রাপ্ত বলেন, “ইউরোপে যাওয়ার আশা নিয়ে লিবিয়ায় যাই। পরে দালালরা আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়। অনেক কষ্ট করে বেঁচে ফিরলাম, এখন শুধু পরিবারকে দেখে শান্তি লাগছে।”

ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার লিবিয়ার অন্যতম কঠোর পরিবেশের আটককেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসী মানব পাচারকারী চক্রের দালালি, সংঘাতের ঝুঁকি ও অনিরাপদ পথচলার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকেন। বাংলাদেশিরাও সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথের অংশ হয়েছিলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিষয়ে আইওএম স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ধাপ পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।